উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাসে নিম্নমুখী প্রবণতায় বৈশ্বিক চিনির বাজার

বাড়তি উৎপাদন ও উদ্বৃত্ত সরবরাহের পূর্বাভাসে বৈশ্বিক চিনির বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

বাড়তি উৎপাদন ও উদ্বৃত্ত সরবরাহের পূর্বাভাসে বৈশ্বিক চিনির বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে নিকটবর্তী সময়ে সরবরাহ চুক্তিতে লন্ডনের বাজারে পণ্যটির দাম গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অনলাইনভিত্তিক ফাইন্যান্সিয়াল ও মার্কেট অ্যানালাইসিস প্লাটফর্ম ট্রেডিংভিউ। খবর চিনিমান্ডি।

ব্রাজিলের শিল্প সংগঠন ইউনিকা জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশটির সেন্টার-সাউথ অঞ্চলে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট চিনি উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ ৩৬ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মোট উৎপাদিত আখের ৫০ দশমিক ৭৮ শতাংশ চিনি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, আগের মৌসুমে যা ছিল ৪৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, অতিরিক্ত উদ্বৃত্তের কারণে বিশ্ববাজারে বেশ কয়েকদিন ধরেই নিম্নমুখী আছে চিনির দাম। চিনি ব্যবসায়ী সংস্থা জারনিকো গত সপ্তাহে জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির মোট উদ্বৃত্ত থাকতে পারে ৮৩ লাখ টন। এছাড়া ২০২৬-২৭ মৌসুমে এ উদ্বৃত্তের পরিমাণ হতে পারে আরো ৩৪ লাখ টন।

গ্রিন পুল কমোডিটি স্পেশালিস্টস গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ২৭ লাখ ৪০ হাজার টন চিনির উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে পরের মৌসুমে তা দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৫৬ হাজার টনে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবা ও ব্রোকার প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্স একই মৌসুমে ২৯ লাখ টন চিনি উদ্বৃত্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে।

বিশ্বে চিনি উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। ইন্ডিয়া সুগার অ্যান্ড বায়ো এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ) গত ১৮ জানুয়ারি জানায়, ১ অক্টোবর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে চিনি উৎপাদন ২২ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৫৯ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মৌসুমজুড়ে উৎপাদন পূর্বাভাস তিন কোটি টন থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ১০ লাখ টনে উন্নীত করে। এ পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে এ সময় আগের মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন বাড়বে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

ব্রাজিলের রেকর্ড উৎপাদন সম্ভাবনাও চিনির বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি সরবরাহ ও পরিসংখ্যান সংস্থা কোনাব জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশটিতে মোট চিনি উৎপাদনের পরিমাণ হতে পারে ৪ কোটি ৫০ লাখ টন, আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৪ কোটি ৪৫ লাখ টন।

ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশন (আইএসও) গত ১৭ নভেম্বর জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উদ্বৃত্ত দাঁড়াতে পারে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ভারত, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানে উৎপাদন বৃদ্ধি এর পেছনে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সংস্থাটি বৈশ্বিক উৎপাদন ৩ দশমিক ২ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮ কোটি ১৮ লাখ টনে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উদ্বৃত্ত সরবরাহের ধারাবাহিক পূর্বাভাস ও উৎপাদন বৃদ্ধির গতি চিনির বাজারে নিম্নমুখী চাপ বজায় রাখছে।

আরও